নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বর্তমানে ওই ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়া (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পরই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী বর্তমানে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের নভেম্বরে বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হলে ওই ছাত্রীকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে সে।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আবু মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

