
বাবা-মায়ের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি করবেন এটাই ছিল রবিউল ইসলাম হৃদয়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সংসারের অভাব ঘোচাতে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে প্রায় পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গার এই তরুণ।
প্রবাসে গিয়ে সাড়ে তিন বছর বৈধ কাগজপত্রের জটিলতায় তেমন কাজ পাননি তিনি। পরে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে ঋণের টাকা পরিশোধ করছিলেন। পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ছয় মাস আগে ছোট ভাইকেও সৌদি নিয়ে যান রবিউল।
কিন্তু গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার মরদেহ পৌঁছায় নিজ গ্রাম মহিষডাঙ্গায়।
মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে শেষ কথায় রবিউল বলেছিলেন, মা, এখন ঘুমাবো, পরে কথা বলব। সেই ঘুমই যে শেষ ঘুম হবে, তা ভাবতে পারেননি মা আঞ্জুয়ারা বেগম।
ছেলের মরদেহ দেখে শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকের পাশাপাশি এখন পরিবারের সামনে রয়েছে রবিউলের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝাও।
স্বজনরা জানান, অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হোক। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম মহিষডাঙ্গায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে রবিউল ইসলাম হৃদয়কে।
বাবা-মায়ের স্বপ্নের বাড়ি আর করা হলো না।
প্রবাস থেকে রবিউল ফিরলেন স্বপ্ন নিয়ে নয়, কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।
