০৭ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ৩:০৩:৪৬ মিনিট
বান মারা’র অভিযোগে ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ#

বান মারা’র অভিযোগে ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ#

নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের তিন নারীকে মারধরের পর গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া এলাকায় তাদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে তাদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং গহনা নিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা হলেন—প্রবাসী পিন্টু মিয়ার স্ত্রী বুলবুলি খাতুন, মেয়ে তৃষা খাতুন এবং শাশুড়ি জুলেখা খাতুন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তৃষা খাতুনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রতিবেশী রাতুল ইসলাম। পরে তৃষার অন্যত্র বিয়ে হলে রাতুলের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে রাতুল অন্যত্র বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের পক্ষ থেকে তৃষার পরিবারকে দায়ী করে ‘বান মারা’ বা জাদুটোনার অভিযোগ তোলা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের বাড়ি থেকে মারধর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং থানায় গেলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বুলবুলি খাতুন। তার অভিযোগ, কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী ও হাবিল উদ্দিন বলেন, পিন্টুর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এভাবে নারীদের অপমান ও নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত ইয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়েকে ‘বান মারা’ হয়েছে—এমন ধারণা থেকেই গ্রামের লোকজনকে ডেকে আনা হয় এবং নারীদের জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছে। তবে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *