ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। আগে বাড়িতে দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে আরও সাতজন সদস্য অতিরিক্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তার প্রত্যাশা, বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হাইকোর্টেও বহাল থাকবে এবং কোনো আসামি আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে না।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে ভবনের ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নুসরাতের মায়ের করা যৌন নিপীড়নের মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। গত ২০ আগস্ট হাইকোর্টে এসব আবেদনের শুনানি শেষ হয় এবং আজ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এখন সবার নজর হাইকোর্টের রায়ের দিকে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি সাজায় কোনো পরিবর্তন আসবে?

