
নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত বারনই নদে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নদীর চারটি স্থান থেকে পানি ও মরা মাছের নমুনা সংগ্রহ করেছে তদন্ত কমিটি।
শনিবার বিকেলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বারনই নদ পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, “বারনই নদে মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনায় তদন্ত কমিটি নদটি পরিদর্শন করেছে। চারটি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার পরই মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, বারনই নদে আটটি স্থানে মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। সেখানে মা মাছের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নদে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বারনই নদের পানিতে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। কোথাও কোথাও পানিতে গ্যাসের মতো বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে নদে ভেসে উঠতে থাকে।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই পাড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই জাল ও বিভিন্ন উপায়ে ভেসে ওঠা মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ সালে বারনই নদে মাছের মড়কের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নদীতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়ে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মাছ মারা যেতে পারে।
এবারের ঘটনায় পানিতে গ্যাসের মতো বুদবুদ ও হঠাৎ বিপুল মাছের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনেই মিলবে বারনই নদে মাছের আকস্মিক মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।
