
নাটোরের বারনই নদীতে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় পানিতে অতিরিক্ত অ্যামোনিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক পরীক্ষায় নদীর পানিতে প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম অ্যামোনিয়া পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, এ মাত্রার অ্যামোনিয়া মাছের জন্য সহনীয় নয়। পানির গুণগত পরিবর্তনের কারণেই মাছের মড়ক হয়ে থাকতে পারে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বারনই নদীর পানিতে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে শুরু করে। কোথাও কোথাও পানির ওপর গ্যাসের মতো বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গিয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই পাড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকে জালসহ বিভিন্ন উপায়ে ভেসে থাকা মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে যান।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন সিংড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, নাটোর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হোসেন।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারনই নদীর চারটি স্থান থেকে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রতি লিটার পানিতে ১ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম অ্যামোনিয়া পাওয়া যায়। অথচ পানিতে স্বাভাবিক অ্যামোনিয়ার মাত্রা শূন্য দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম/লিটার হিসেবে ধরা হয়।
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা পানি ও মাছের নমুনা পরীক্ষার পর পানিতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া মাছের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এর প্রভাবে মাছ মারা যেতে পারে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বারনই নদীর উজানে মাত্রাতিরিক্ত পাট জাগ দেওয়া, নদীর পানিতে মুরগির খামারের বর্জ্য ও বিষ্ঠা পড়া এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্য নদীতে আসার কারণে পানির গুণগত মানের অবনতি হতে পারে। এর পাশাপাশি টানা এক সপ্তাহের মেঘলা আবহাওয়াও পানিতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওমর আলী জানান, টানা রোদ ও স্বাভাবিক আবহাওয়া থাকলে ধীরে ধীরে নদীর পানির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন, বারনই নদীতে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাই শুধু মাছ মারা যাওয়ার তাৎক্ষণিক কারণ চিহ্নিত করলেই হবে না। নদীর পানিতে কীভাবে দূষণ ঘটছে এবং এর উৎস কোথায়—তা নির্ধারণ করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও বারনই নদীতে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছিল। সে সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নদীতে অতিরিক্ত পাট জাগ দেওয়ার কারণে পানিতে দূষণ এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মাছ মারা যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
