চলতি সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো হামলা না চালালেও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এআই চালিত পোস্টের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযান বাড়িয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারে ইরানের মানচিত্রে নিজের মুখচ্ছবি বসিয়ে দেশটিকে ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য জাহির করা সেই পোস্টে ইরানের ধসে পড়া তেল রপ্তানির দৃশ্য, খার্গ দ্বীপে তেহরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলার হুমকি এবং ট্রাম্পের মুখের অবয়বের আদলে ইরানের মানচিত্র কেটে তৈরি মধ্যপ্রাচ্যের একটি মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, অস্থিতিশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ আবারও দিনে ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে; যা সংঘাতের আগে ছিল দিনে ২ কোটি ব্যারেল।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার জবাবে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ রুট কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। নৌপথে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়; যার ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি এই জলপথ দিয়ে তেল চলাচল অব্যাহত রাখতে যুদ্ধের লক্ষ্য পরিবর্তন করে।
ট্রাম্পের শেয়ার করা অন্যান্য ছবিতে বলা হয়, ইরানের তেল রপ্তানি ধসে পড়ছে, দেশটিতে অতি-মুদ্রাস্ফীতি চলছে এবং এর মুদ্রার মান ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি ছবিতে দেখানো হয়, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রতি মার্কিন ডলারে রিয়ালের মান যেখানে ছিল প্রায় ৯ লাখ, তা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে কমে দাঁড়িয়েছে ডলারে ২২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।
অপর একটি পোস্টে ইরানের মানচিত্রের ওপর ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের পাশের অংশের প্রতিচ্ছবি বসিয়ে দেখানো হয়; যা সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন বার্তায় ব্যক্তিগত আক্রমণের সুর ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরে। তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি নাটকীয় ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে একটি যুদ্ধবিমানকে তেলকূপে বোমা বর্ষণ করতে দেখা যায়। এই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘‘বাই বাই, খার্গ।’’
ইরানের সঙ্গে টানা সংঘর্ষ চলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার ধারণা নিয়ে ট্রাম্প ট্রল করার মাত্র কয়েক দিন পর ইরানি মানচিত্রে নতুন করে অনলাইন হামলা চালিয়েছেন। যদিও এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বলেন, বিষয়টি তেমন গুরুতর কিছু নয়।
• ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানি বন্দরগুলোতে ওয়াশিংটনের পাল্টা অবরোধেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইরান, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া আক্রমণকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি সর্বশেষ সংঘাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে তেহরান লক্ষ্যবস্তু করার পর নতুন যেকোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন, আনুপাতিক বা সমপরিমাণ প্রতিক্রিয়া জানানোর যুগের সমাপ্তি ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের দ্রুততর, আরও তীব্র এবং বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই বলেছেন, আগামী দিনে ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করবে।
তিনি বলেছেন, এই এলাকাটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ লাইন থেকে শুরু হবে এবং পারস্য উপসাগরের এলাকাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই নতুন এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রাখা হবে।
প্রায় এক মাস শান্ত থাকার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করায় গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান পরস্পরের স্বার্থে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।
সূত্র: এনডিটিভি।
