০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | বিকাল ৫:৫২:০৪ মিনিট

রাশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন রুবেল, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের নলডাঙ্গার এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে যান অভিযুক্তরা।

অভিযুক্ত দম্পতি হলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ভট্টপাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম হৃদয় ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন।

অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়ার ভোরোনেজ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি—ভিএসইউএফটির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেন তারা। পরে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শ্রমিকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, টিউশন ফি পরিশোধের জন্য তিনি তিন দফায় মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর অভিযুক্তরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় তিনি নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন।

আরেক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, ছেলেকে পড়াশোনা করানোর জন্য অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তদের প্রতারণার কারণে এখন অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। প্রতারকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে অভিযুক্ত দম্পতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন পোস্টে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

অভিযোগের বিষয়ে মিনহাজুল ইসলাম হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে হৃদয় দাবি করেছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং আইনজীবীর মাধ্যমে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় শুধু তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *