স্টাফ রিপোর্টার

নাটোরে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৪৫ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
বৃহস্পতিবারবেলা ৩টায় নাটোরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, জেলার ৭টি উপজেলা ও পৌরসভা গুলিতে এক এগারশত ৪৮টি কেন্দ্রে এ টিকাদান কর্মসূচী চালানো হবে। তিনি জানান আগামি ২৮ জুন সকাল ৮টায় নাটোর শহরের ব্রজ সুন্দরী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।
সিভিল সার্জন আরো জানান ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক প্রেজেনটেশানে বলা হয় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে। সিভিল সার্জন জানান ,নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়।
শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল।

