স্টাফ রি

নাটোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে সাত বছরের এক শিশুর আঙুলে ধারালো বটি দিয়ে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটোর পৌরসভার হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাকিল ও তার স্ত্রী মোছা. নাহরিন সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে তারা ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সাত বছরের শিশু মো. বায়েজিদ বিন মাহমুদকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে অভিযুক্ত নারী শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল ধরে রাখেন এবং পুলিশ কনস্টেবল শাকিল ধারালো বটি দিয়ে ওই আঙুলে উপর্যুপরি কোপ দেন। এতে শিশুটির আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত মো. শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে তার স্ত্রী মোছা. নাহরিনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শাকিল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাটোর থানার ওসি মনসুর আহমেদ জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

