নাটোরে জামিন পেয়েই গরিবের অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিলেন অভিযুক্ত#নাটোরে জামিন পেয়েই গরিবের অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিলেন অভিযুক্ত#

স্টাফ রিপোর্টার

ইদালত

নাটোরে জামিন পেয়েই গরিবের অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিলেন অভিযুক্ত#
নাটোরে জামিন পেয়েই গরিবের অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিলেন অভিযুক্ত#

থেকে জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেই পূর্ব শত্রুতার জেরে এক শিক্ষকের ভাইয়ের মাইক্রোবাসে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অভিযুক্ত আসামির বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত এই গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ ও অসহায় মানুষের জরুরি চিকিৎসার জন্য ‘অ্যাম্বুলেন্স’ হিসেবে নামমাত্র খরচে সেবা দিয়ে আসছিল।

গতকাল মধ্যরাতে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে এই জঘন্য ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাসান আল জামান সুইটের ছোট ভাই মো. মারুফ আল মামুনের।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন শিক্ষক হাসান আল জামান সুইটের ছোট ভাই মো. মারুফ আল মামুন ও তার নাবালক ছেলে অভ্র আবির দুর্লভপুর কেন্দ্রীয় গোরস্তান সংলগ্ন পৈতৃক আমের বাগানে যান। সেখানে তারা দেখতে পান, স্থানীয় মোঃ মাহফুজ আলী ও মোঃ আব্দুর রহিমসহ ১০-১২ জন ব্যক্তি রাস্তার মাটি কাটার অজুহাতে তাদের নিজস্ব বাগান সংলগ্ন বাঁধ ভেঙে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বাধা দিলে আসামিরা মারুফ ও অভ্রকে অতর্কিত মারধর করে গুরুতর জখম করে।

এই ঘটনায় নলডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ মূল আসামি মাহফুজকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। গতকালই (বৃহস্পতিবার) আসামি মাহফুজ আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরে এবং এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় মধ্যরাতে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।

শিক্ষক হাসান আল জামান সুইট ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আমি ঘরে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। হঠাৎ বাইরে পায়ের শব্দ পেয়ে আমি সজাগ হই এবং জানালা দিয়ে তাকাই। বাইরে জ্বালানো বাল্বের আলোয় আমি পরিষ্কার দেখতে পাই সদ্য জামিন পাওয়া মাহফুজ একটি বোতল থেকে আমার ভাইয়ের গাড়িতে পেট্রল ছিটকাচ্ছে এবং পাশে আব্দুর রহিম দাঁড়িয়ে আছে। আমি ‘কে কে’ বলে চিৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই মাহফুজ দেশলাই জ্বালিয়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পূর্ব দিকে তাদের বাড়ির দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।”

শিক্ষকের চিৎকার ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখে দ্রুত আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় রোগীদের একমাত্র ভরসা এই গাড়িটির গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মেকানিক পরীক্ষা করার পর গাড়িটি মেরামতের সঠিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে।

খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনোয়ারুজ্জামান পুলিশ ফোর্স নিয়ে দুর্লভপুর গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে ওসি মো. মোনোয়ারুজ্জামান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল সশরীরে পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছি। মাধনগর এলাকায় ইদানীং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পূর্বের মারধরের মামলার জেরে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, এই জঘন্য ঘটনার সাথে জড়িতদের অচিরেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে এলাকার মানুষের বিপদের বন্ধু ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র মাধ্যম এই গাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসী অবিলম্বে চিহ্নিত অপরাধীদের পুনরায় গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *