
ফরম পূরণে প্রতারণার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী। অবশেষে সরকারি বিশেষ ব্যবস্থায় সোমবার রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সেই বাদ পড়া পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে নাটোরের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় তাদের বাড়তি ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে।
পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহানের বাবা ইমামুল হক জানান, মেয়ের বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। তাই পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে মেয়েকে নিয়ে আগেই রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন তিনি। ভোগান্তি থাকলেও মেয়ের পরীক্ষা দিতে পারায় তিনি আনন্দিত।
জানা গেছে, ফরম পূরণের সময় আব্দুলপুর সরকারি কলেজের গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার আট শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন হাজার টাকা নেন এবং ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফরম পূরণ না হওয়ায় তারা প্রবেশপত্র পাননি। ফলে ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি তারা।
পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়। তারা দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, শুধু আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী নন, বিভিন্ন জেলার মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থী নানা কারণে কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের বাদ পড়া পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা বাদ পড়া পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন—এটাই স্বস্ত
এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতারণায় আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার পথ থমকে গেলেও সরকারি উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত তারা সেই সুযোগ ফিরে পেয়েছেন। এখন তাদের অপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের।

