দেশের অন্যতম বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে। অথচ সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাছেই রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শত শত পরিবার স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবারুদছড়া, ভাইজ্যতলী ও হরিণছড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫৬০টি পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিহীন জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের বেলায় কুপি ও মোমবাতিই তাদের ভরসা। এতে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির সুবিধা থেকেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। সামর্থ্যবান কিছু পরিবার সোলার প্যানেল ব্যবহার করলেও অধিকাংশ মানুষের সেই সুযোগ নেই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দুর্গম এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সময় লাগলে অন্তত প্রতিটি পরিবারে সরকারি অর্থায়নে সোলার সিস্টেম দেওয়া হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ভানুমতি চাকমা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানির জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। দ্রুত সঞ্চালন লাইন স্থাপন সম্ভব না হলে সোলার সিস্টেম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার জানান, ২০২২ সালের পর রাঙামাটিতে নতুন কোনো সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়নি। নতুন একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে আবারও নতুন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *