ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবর্তন নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বদলে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক লুক হার্ডিং।
তার নতুন বই ‘বিট্রেয়াল: ট্রাম্প, পুতিন অ্যান্ড দ্য নিউ এজ অব কনকোয়েস্ট’-এ ট্রাম্প ও পুতিনের সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে ইউক্রেনকে দেওয়া আগের মার্কিন সহায়তার সমালোচনা করেন। ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে বিশেষ সুবিধা দাবি এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধও তৈরি হয়। একপর্যায়ে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
অন্যদিকে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বইটিতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের মানবিক বিপর্যয়, রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের ভূমিকা এবং ইউরোপের ওপর মস্কোর চাপ তৈরির কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বইটির সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—ট্রাম্প কি রাশিয়ার ‘অ্যাসেট’, অর্থাৎ রাশিয়ার স্বার্থে কাজ করা কোনো ব্যক্তি?
লুক হার্ডিং অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বরং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প কি স্বৈরশাসকদের ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট, নাকি রাশিয়ার হাতে তার বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য কোনো তথ্য রয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে ট্রাম্পের নীতির কিছু পদক্ষেপ পুতিনকে সুবিধা দিয়েছে বলে বিশ্লেষণ থাকলেও, পুতিন নিজেও ট্রাম্পের প্রতি হতাশ হতে শুরু করেছেন—কারণ ইউক্রেনকে তার কাঙ্ক্ষিত শর্তে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এখনো সম্ভব হয়নি।
আর সেখানেই হার্ডিংয়ের বইয়ের মূল প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়ে ওঠে—ট্রাম্প যদি সত্যিই রাশিয়ার স্বার্থে কাজ করতেন, তাহলে তিনি আর কী করতেন?

