
নাটোরের গুরুদাসপুরে চাপিলা ইউনিয়নে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন নিয়োগবঞ্চিত আবেদনকারী মোঃ নাজমুল হুদা রাজ।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।
তার দাবি, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে
নিয়মবহির্ভূত ভাবে ভাই ভাই সরকার এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী মো. বেলার হোসেনকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয় শর্তও তিনি পূরণ করেননি বলে দাবি করেন নাজমুল হুদা রাজ।
নিয়োগবঞ্চিত মোঃ নাজমুল হুদা রাজ
অভিযোগ করেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মো. বেলাল হোসেন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ পন্থি। তার গোডাউন এবং কাগজপত্র ত্রুটিপূর্ণ। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে যতজন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সবাই ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ পন্থির। অর্থের বিনিময়ে ডিলারশীপ পেয়েছেন তারা।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি নাটোর জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের উপকমিটির সদস্য। বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের শাসন আমলে তাদের অত্যাচারে বাড়িতে বসবাস করতে পারিনি। পালিয়ে দিন কেটেছে। মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নি, সেই ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, একজন ডিলার হিসেবে সকল শর্ত পূরণ করে আবেদন করি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেওয়া হয়। একটি গুদাম ঘরও নিমার্ণ করেছি। গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমি একজন যোগ্য প্রার্থী। সরকারের কাছে আবেদন, এই অনিয়ম ও দূনীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে সার ডিলার নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগের জোর দাবী তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার মো. বেলার হোসেন বললেন, সরকারি নিয়মনীতি ও শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানালেন, নীতিমালার বাইরে বা অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
