
স্
নাটোরের লালপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মমতাজ হাসান শিমুলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলার উত্তর লালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকের ছোট ভাই মো. সোহাগ আলী বাদী হয়ে লালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ডা. মমতাজ হাসান শিমুল অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট হিসেবে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। তিনি ৩৩তম বিসিএসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
চিকিৎসকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ডা. শিমুলের ছোট ভাই সোহাগ আলী বাড়ির পাশের ধানের খলায় যান। সেখানে কয়েকজনকে বসে আড্ডা দিতে দেখেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের কয়েকজন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করছিলেন।
এ সময় সোহাগ আলী তাদের দিকে টর্চের আলো ফেললে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, লালপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজীবের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা বাড়ির সামনে থাকা মোটরসাইকেল এবং ঘরের ফ্রিজ, এসি, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে বাড়ি থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ডা. মমতাজ হাসান শিমুল বলেন, ‘আমার সামনে আমার বাবার গায়ে হাত তোলা হয়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে তারা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।’
তিনি আরও বলেন, তাঁর মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি, সিসি ক্যামেরা, বাথরুমের পাইপলাইনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে।
চিকিৎসকের ছোট ভাই ও অভিযোগের বাদী মো. সোহাগ আলী বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চিকিৎসকের বাবা মো. হাসেম ডিলারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা সজীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

