যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞান পার্টি ও নারী চোর চক্রের তৎপরতা যেন থামছেই না। এক দিনের ব্যবধানে চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দুই নারীকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

এর আগে একই হাসপাতালে তিন দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও কাটার চেষ্টার সময় দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, হাসপাতালকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন জেবুন্নেছা (৬৫) নামে এক নারী। চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাঁকে অচেতন করে গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের রুলি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

জেবুন্নেছা যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ে আমেনাকে দেখতে এবং তাঁর দেখাশোনা করতে এসেছিলেন তিনি।

 

ভুক্তভোগীর জামাতা আব্দুল হাকিম জানান, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মেয়ের শয্যার পাশে ছিলেন জেবুন্নেছা। দুপুর ১টার দিকে এক নারী তাঁকে বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় নিয়ে যান। সেখানে চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ওই নারী তাঁর স্বর্ণের চেইন ও রুলি নিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছেন তিনি।

 

পরে জেবুন্নেছাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

 

এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিকিৎসক দেখাতে এসে একই ধরনের ঘটনার শিকার হন সালমা বেগম (৬০)। সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের এই নারীকে অচেতন করে তাঁর কানের স্বর্ণের দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। পরে স্বজনরা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের পাশ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনিও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

 

অন্যদিকে, গত ১০ ও ১৩ আগস্ট একই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও কাটার চেষ্টার সময় শিউলি (৪৫) ও নিলুফা (২১) নামে দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাঁদের একজন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অন্যজন কাটার দিয়ে আরেক নারীর গলার চেইন কাটার চেষ্টা করছিলেন।

 

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এর আগেও বহির্বিভাগে রোগী সেজে লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীদের ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে একাধিক নারীকে আটক করা হয়েছে। গত মাসে অন্তত ৩০ রোগীর ব্যাগ থেকে টাকা চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রটির দাবি। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে যদি চুরি, ছিনতাই কিংবা অজ্ঞান পার্টির শিকার হতে হয়, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

 

তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, হাসপাতালকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের মালামাল এবং টাকা চুরির ঘটনায় মাঝেমধ্যে চক্রের সদস্যদের আটক করা হচ্ছে। তাঁদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *