নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

 

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়ক অবরোধ করেন তারা।

এতে মহসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দিয়েছে বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ।

 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা সড়কে টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে অবরোধ করে রেখেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করছে।”

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।

 

যেখানে বুলবুলের ওপর হামলা হয়েছে সেটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

 

ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

 

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় একটি ‘কিশোর গ্যাং’ এর নেতা শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়।

 

এ মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।

 

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার না করা হলে মহাসড়কের অবরোধ তুলবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।

 

বিক্ষোভকারী ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা নিজেদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুক লাইভ করে বলেন, বুলবুল হত্যার বিচারের দাবিতে তারা অবরোধ করেছেন। বুলবুলকে যারা হত্যা করেছে তাদের প্রকাশ্যে ফাঁসি চান তারা।

 

তাদের দাবি, প্রশাসন তাদের গোজামিল দিচ্ছে, তারা এসব মানবেন না। তারা কোনো ‘কমিটমেন্ট’ ছাড়া এ অবরোধ তুলবেন না।

 

এদিকে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে এক বার্তায় বলেন, বুলবুল আহমেদকে হত্যার ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ৯জনকে আটক করেছে পুলিশ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *