স্টাফ রিপোর্টার:

বিয়ের প্রলোভনে এক প্রতিবন্ধী মেয়ে’কে নিজ প্রতিষ্ঠানে ঢাকার ব্যবসায়ী বন্ধু সহ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ম্যাঙ্গো লাভার মুরাদ’র বিরুদ্ধে ।

ম্যাঙ্গো লাভার খ্যাত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারি মুরাদ পারভেজের বিরুদ্ধে রাজশাহী কলেজে পড়া ঐ ছাত্রী গত ২১ জুলাই পবা থানায় অভিযোগ করেছে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুরাদ পারভেজ (৩২) এর মাধ্যমে তার বন্ধু ঢাকা উত্তরার ইবনে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শের আলী দুলাল’র (৩৬) সাথে আমার পরিচয় হয় এবং পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ের কথা বার্তা চলতে থাকে। গত ২১ জুলাই দুলাল’র সাথে আমার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক থাকায় দুলাল বিয়ে করার জন্য ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসে এবং বিয়ের কেনা-কাটা করার জন্য আমি ও আমার ছোট বোন তার সাথে বের হই।
কেনা-কাটা শেষে দুলাল আমাকে ও আমার বোনকে পবা থানার নওহাটা বাজারের ওয়ালটন শোরুম’র ৪র্থ তলায় মুরাদ পারভেজ’র অফিসে বিয়ে করার জন্য নিয়ে যায়।

আমি তখন আমার পরিবারের লোকজনকে সেখানে
আসতে বলি। আমরা মুরাদ’র অফিসে গেলে মুরাদ আমাকে ও দুলাল’কে একটি রুমে বসতে দেয় এবং আমার ছোট বোন’কে আলাদা রুমে রাখে।
এসময় দুলাল আমার সাথে জোরকরে শারিরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করলে আমি নানা অজুহাতে তাকে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধা দেই।
এসময় দুলাল তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য আমার শরীরের স্পর্শ কাতর বিভিন্ন অংশে হাত দেয়।
পরে মুরাদ আমাদের বিয়ের দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করার জন্য এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসে।
এরপর মুরাদ দুলালকে আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে কথাবার্তা বলে দুলাল আমাকে বিয়ে করবে না বলে আমাকে জানায়। আমি তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে এবং আমার পরিবারের লোকজন আসলে তাদের সামনে বিষয়টি সমাধান করতে বললে মুরাদ আমাকে ও আমার ছোট বোনকে নিয়ে গিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে আমাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে।

এসময় দুলাল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আমার পরিবারের লোকজন আসলে মুরাদ তাদের সহ আমাদের কে ঘরে বন্দি করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এরপর আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ও পবা থানা পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।
এরপর আমার পরিবারের লোকজন এসে মুরাদ’কে ফোন করলে সে জানায় দুলাল আমাকে বিয়ে করবে না। আমরা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় প্রতিদিন-ই এই প্রতিষ্ঠানে নিত্য নতুন লোকজন যাওয়া আসা করে এবং এসময় বিভিন্ন মেয়েদেরকে দেখা যায়। আমাদের ধারণা ব্যবসার আড়ালে দেহ ব্যবসাও পরিচালনা করছে এই প্রতিষ্ঠান। এখানে এটি নতুন কোন ঘটনা নয়, প্রায়-ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে এই প্রতিষ্ঠানে।

ঘটনার সত্যতা জানতে, মুরাদের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ এ ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তারও কোন উত্তর মেলেনি।
এ বিষয়ে পবা থানার ওসি’কে ফোন করলে, ফোনটি এসআই আশিক ধরেন। তিনি বলেন, ওসি স্যার ছুটিতে আছেন, উনি আসলে কথা বলুন। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *