ক্রিকেট কিংবা ফুটবল, যে কোনো খেলায় বাংলাদেশ-ভারতের দ্বৈরথ মানেই এখন অন্যরকম রোমাঞ্চ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। চলমান নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে আবারও ভারতকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটির বিপক্ষে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল লড়বে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার)।
দাপুটে ফর্ম দেখিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত। ফলে বিপর্যস্ত ব্যাটিং নিয়ে সেমিতে ওঠা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। অবশ্য এখনই ফল নিয়ে ভাবতে চান না অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ভারত খুবই শক্তিশালী দল। আমরা তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করব। ফল তো একটা আসবেই। কিন্তু নিজেদের পুরোটা উজাড় করে দিতে হবে।’
কিছুটা আত্মবিশ্বাস শোনা গেছে শারমিন আক্তার সুপ্তার কণ্ঠে। সেমিফাইনালে ভারতকে চাপ হিসেবে দেখছেন না তিনি, ‘আপনি নেতিবাচক ভাবতে থাকলে এটা চাপ হতে পারে। কিন্তু ভারতের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য আনন্দের। আপনি যদি চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তবে এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আপনাকে খেলতেই হবে। তাদের বিপক্ষে খেলাটাকে আমরা চাপ নয়, বরং উপভোগ করি।’
আমিরাতের বিপক্ষেও বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সে প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার বলেন, ‘মাঝেমধ্যে এমনটা ঘটতেই পারে। আমার মনে হয়েছিল, এমন পরিস্থিতিতে এক প্রান্তে টিকে থেকে টেল-এন্ডারদের সঙ্গে জুটি গড়া প্রয়োজন। শুরুতেই ৫-৬ উইকেট হারালে এগোনো কঠিন। তবে নাহিদা দারুণ ব্যাটিং করেছে, সে আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।’
প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরুর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে যায় টাইগ্রেসরা। ফলে আরব আমিরাত ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার, হারলেই বাদ এবং জিতলে সেমিফাইনাল। এমন ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে জ্যোতির দল ২০ ওভারে টেনেটুনে ১০৩ রান তোলে। পরে ম্যাচ জমিয়ে তোলে বোলাররা। রাবেয়া খানের ৩, মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তারের ২টি করে শিকারে ৯ উইকেট হারিয়ে আমিরাতের মেয়েরা ৬৯ রান করতে সক্ষম হয়।