
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পুকুর থেকে শাহজাহান আলী (৫৩) নামে এক আনসার ভিডিপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চককোয়ালিপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহজাহান আলী চককোয়ালিপাড়া গ্রামের মৃত নাদের আলীর ছেলে। আনসার ভিডিপি সদস্যের পাশাপাশি তিনি একটি গভীর নলকূপ পরিচালনা করতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেলে আসর নামাজের সময় বাড়ি থেকে বের হন শাহজাহান আলী। এদিন রাত ১১টার দিকে শাহজাহান আলীসহ কয়েকজন কোয়ালিপাড়া গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে বসে মুড়ি মাখিয়ে খান। পরে তিনি সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হন। শনিবার সকালে পুকুরের মালিক খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম পুকুরে গিয়ে পাড়ের একটি আম গাছের সঙ্গে শাহজাহানের শার্ট এবং পাশে স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে শাহজাহানের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং শাজাহানের বাড়িতে গিয়ে তার লাশের প্রাথমিক সুরাৎহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার পুকুরে অবাঞ্ছিত মাছ নিধনের জন্য গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠছিল। শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে শাহজাহান মরা মাছ তুলতে গিয়ে পানিতে পড়ে ডুবে মারা যেতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
শাহজাহানের ছেলে আসিফ আলী বলেন, তার বাবা বেশিরভাগ সময় পাশের গ্রামে থাকতেন। শুক্রবার বিকেলেও তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে সেখানে যান। পরে সকালে খবর পেয়ে চাচাদের সঙ্গে গিয়ে পুকুর থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধার করেন। তার বাবার কারও সঙ্গে শত্রুতা বা আর্থিক লেনদেন ছিল না। পুকুরের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় মরা মাছ তুলতে গিয়ে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনাময়নাতদন্তে দাফনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান ওসি সুমন চন্দ্র দাস।
