০১ নভেম্বর ২০২৬ | রাত ১০:৪৫:৩৬ মিনিট
নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও, অকৃতকার্য ১৩৯ পরীক্ষার্থী #নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও, অকৃতকার্য ১৩৯ পরীক্ষার্থী
স্টাফ রিপোর্টার

নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও, অকৃতকার্য ১৩৯ পরীক্ষার্থী#
নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও, অকৃতকার্য ১৩৯ পরীক্ষার্থী
নাটোরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা রয়েছে। জেলার ছয়টি উপজেলার এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাটোর জেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তালিকায় নাটোর সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, লালপুর, সিংড়া ও নলডাঙ্গা উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ রয়েছে।
নাটোর সদর উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়ে ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। বাগাতিপাড়া উপজেলায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে ১ জন, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে ২ জন এবং চিঞ্চিলা হাই স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজে ১০ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
লালপুর উপজেলায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধা কান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নেঙ্গোপাড়া দারুসসুন্নাত আলিম মাদ্রাসা এবং রায়পুর জাফরিয়া আলিম মাদ্রাসা। এর মধ্যে মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩ জন, রাধা কান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৪ জন, নেঙ্গোপাড়া দারুসসুন্নাত আলিম মাদ্রাসায় ১ জন এবং রায়পুর জাফরিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
সিংড়া উপজেলায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন পরীক্ষার্থী সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে আগপাড়া শেরকোল বন্দর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৪ জন এবং দুর্গাপুর আইডিয়াল টেকনিক্যাল হাই স্কুলে ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
নলডাঙ্গা উপজেলায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে শাহাবাড়ীপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় ২৩ জন, সড়কুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন এবং হাতিয়াগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
সব মিলিয়ে নাটোর সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, লালপুর, সিংড়া ও নলডাঙ্গা উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার রুস্তম আলী হেলালি বলেন, প্রকৃতি কার্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে 16 টি রয়েছে নন এমপিও ভুক্ত। অপরদিকে নলডাঙ্গার দুটি এমপি ভুক্ত স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। আমরা এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন নন এমপিওভক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈতনিক। সেখানে লেখাপড়ার মান কিছুটা হলেও নিম্নগামী। এসব কারণে অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে আগামীতে এ ধরনের ফলাফল না আসে।
সচেতন নাগরিক কমিটির নাটোর শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ (অবসরপ্রাপ্ত )আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ফল বিপর্যয় প্রমাণ করে সেখানে ঠিকমত লেখা পড়া করানো হয়না। । আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবেন  এবং শিক্ষার্থীরা যাতে যথাযথ শিক্ষা অর্জন করতে পারে সে বিষয়টি নজরদারিতে আনবেন।



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *