
নাটোরের বড়াইগ্রামে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভায় সরবরাহ করা খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ্য হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আয়োজনে অনুষ্ঠানের খাবার খেরে রাত থেকে অসুস্থ হয়ে পরে শিক্ষরা। তাদেরকে উপজেলা হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। এতে উপজেলার ৪৪টি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১শত শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
অসুস্থ হওয়া মধ্যে আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ জন, কারবালা দাখিল মাদ্রাসার ১১জন, চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮জন ও মাড়িয়া মাদ্রাসার ২জন শিক্ষক ও সাংবাদিক কায়েস উদ্দিনের খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোস্তম আলী হেলালী, জেলা বিএনপির সদস্য এ্যাড. আব্দুল কাদের মিয়া ও এ্যাড. শরীফুল হক মুক্তা, বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমূখ।

প্রধান অতিথি এমপি আব্দুল আজিজ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথারীতি উপস্থিত, শ্রেণি কক্ষে মোবাইল ফোন না নিয়ে যাওয়া, পাঠদানের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল হওয়া, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ও অতিরিক্ত ক্লাশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতি শ্রেণিতে ৫৫ জনের বেশি ভর্তি না নিয়ে বিকাল ৪টার পর্যন্ত রুটিন মাফিক পাঠদান করার আহ্বান জানাই।
একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষক প্রতি তিন শত করে টাকা নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান থেকে ভাত, মুরগির মাংস, মুড়িঘন্ট ও ডিম সরবরাহ করা খাবার খেয়ে রাত থেকে বমি বমি, পাতলা পায়খানা ও পেট ব্যাথা দেখা দেয়। পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করেন।
আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, এই খাবার খেয়ে ১০জন সহকর্মী অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, অসুস্থ হওয়া খবর শুনেছি। এই অনুষ্ঠান শিক্ষকদের আয়োজনে। কোথায় থেকে কিভাবে খাবার সরবরাহ করেছে তারাই বলতে পারবে।
বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা আহম্মেদপুর বনফুল হোটেল এন্ড রেস্টেুরেন্ট থেকে খাবার খাবার নিয়ে এসে সরবরাহ করা হয়েছে। কিভাবে অসুস্থ হলো বুঝা যাচ্ছে না।
বনফুল হোটেল এন্ড রেস্টেুরেন্ট মালিক মিন্টু মিয়া বলেন, কি কারনে হয়েছে বলতে পারবনা। তার খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হলো , কেউ হলো না এটা কেমন কথা। ইউএনও অফিসের ৪০জন খেয়েছে তারা কেউ অসুস্থ হলো না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, হোলেটের মান খারাপ হওয়ার এমনটা হতে পারে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে হোটেলের খাবারের মান ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মত বিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অ.দা) সেলিম আকতার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার বয়েত রেজা।**
ছবি ক্যাপশান -গতকাল শিক্ষক সমাবেশের ফাইল ছবি।
