টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগে ১০ লাখের বেশি মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতেও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যা, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধস-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। দেশের ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা বন্যার প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ।
বন্যার কারণে বহু গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের ঘের, পুকুর, গবাদিপশু এবং স্থানীয় অবকাঠামো। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবানের সাংগু নদী, হবিগঞ্জের খোয়াই নদী, মৌলভীবাজারের মনু নদী এবং সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা বেড়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে নদী ব্যবস্থাপনা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

