৩১ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ৮:১৬:৫৩ মিনিট
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শামীম ও শুভর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম#সংবাদ শৈলীসৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শামীম ও শুভর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম#সংবাদ শৈলী
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শামীম ও শুভর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম#সংবাদ শৈলী
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শামীম ও শুভর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম#সংবাদ শৈলী

স্টাফ রিপোর্টার
সৌদি আরবের সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুই প্রবাসী শামীম হোসেন ও সাব্বির হোসেন শুভর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাঁদের মরদেহ। পরে বিকেলে মরদেহ দুটি নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহত শামীম হোসেন নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে। আর সাব্বির হোসেন শুভ শ্রীপুরপাড়া গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে।
শামীমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, মাত্র এক মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মুখ দেখার আগেই চিরবিদায় নিতে হলো শামীমকে।
সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে আট মাস আগে গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামীম। দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার পর তাঁদের ঘরে এসেছিল একমাত্র কন্যাসন্তান। সন্তান জন্মের খবরে বিদেশে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেওয়া, আদর করা আর পরিবারের সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী মিতু বেগম। একদিকে স্বামীর মৃত্যুর শোক, অন্যদিকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হওয়া শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে দিশেহারা পরিবারটি।
নিহত শামীমের মা শাহীনুর বেগম বলেন, “অনেক আশা নিয়ে আমার ছেলে সৌদি আরবে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটাও দেখতে পেল না। সরকারের কাছে আবেদন, আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন, এখন আমার নাতনির ভবিষ্যতের জন্য যেন কিছু করা হয়।”
এদিকে সাব্বির হোসেন শুভর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়। সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা গোলাম রাব্বানী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। সরকারের সহযোগিতায় ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। অন্তত তার মুখটা দেখতে পেলাম।”
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান জানান, ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের তিন প্রবাসী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে শামীম হোসেন ও সাব্বির হোসেন শুভর মরদেহ শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছায় এবং বিকেলে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। নিহত অপর প্রবাসী রবিউল আউয়াল হৃদয় মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম শেখের ছেলে।



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *