বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার পথে ‘আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
এতে এখন পর্যন্ত চালক ও হেল্পারসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে বরগুনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ওই বাসটিতে বরগুনার বাসটার্মিনাল থেকে ১০ জন এবং বিভিন্ন কাউন্টারসহ ফরিদপুরের ভঙ্গা কাউন্টার থেকে ওঠা মোট ১৫ জন যাত্রী ছিল।
ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত চালক হেল্পারসহ ১৪ জন যাত্রী নিহত হলেও বরগুনা থেকে যাওয়া কোনো যাত্রী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বরগুনা থেকে বাসটিতে যাওয়া দুই যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ওই দুই যাত্রী হলেন, বরগুনার কর্মসংস্থান ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত একেএম ফজলুল হক এবং বরগুনার গ্রামিন ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত মো. জুলফিকর। অপরদিকে বাসে থাকা বরগুনা থেকে যাওয়া আরেক নারী যাত্রীর এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ জানা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহন নামের ওই বাসটি ছেড়ে যায়। এ সময় বরগুনার পৌর বাসটার্মিনাল থেকে ১০ জন যাত্রী ওই বাসে ওঠেন। পরে বরিশাল থেকে ১ জন, সুবিদখালী থেকে ৩ জন এবং ফরিদপুর ভাঙা থেকে আরও ৩ জন যাত্রী বাসে ওঠেন। তবে এদের মধ্যে অধিকাংশই মাগুরা, ফরিদপুর এবং কুষ্টিয়ায় নামেন। তবে বরগুনা থেকে ওঠা তিন যাত্রী রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন।
পরবর্তীতে আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহনের ওই বাসটি মঙ্গলবার ভোর রাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকার মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থকে আসা পাবনাগামী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের চালক ও হেল্পারসহ এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আহত যাত্রীদের মধ্যে বরগুনা থেকে বাসে ওঠা একেএম ফজলুল হক ও মো. জুলফিকর বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত যাত্রী একেএম ফজলুল হকের স্ত্রী মোসা. লাভলীর সঙ্গে মেবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি রাজশাহী। আমার স্বামী বরগুনা থেকে বাসে রাজশাহীর উদ্দেশে আসছিলেন। বাস দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। চোখের অবস্থাও তেমন ভালো না। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা তাকে সিটিস্ক্যান করাতে বলেছেন। পরবর্তীতে বোঝা যাবে কি হয়।
বাস দুর্ঘটনায় আহত বরগুনার যাত্রী মো. জুলফিকরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের বাসা নাটোরে। বাবা বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তিনি কথা বলতে পারছেন। চিকিৎসকরা তাকে সিটিস্ক্যান করতে বলেছেন।
আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহনের বরগুনা কাউন্টারেরর ইনচার্জ সুব্রত বলেন, গতকাল (সোমবার) বিকেল ৪টার দিকে বাসটি বরগুনা থেকে ছেড়ে যায়। এরপর একটি বালুর ট্রাকের সঙ্গে ওই বাসটির সংঘর্ষ হয়েছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেল্পার নিহত হলেও বরগুনা থেকে যাওয়া কোনো যাত্রীর নিহতের খবর পাইনি। তবে বাসে থাকা বরগুনার দুই যাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে শুনেছি।
