স্টাফ রিপোর্টার
ছেলেকে ঘিরে কত স্বপ্নই না ছিল বৃদ্ধ বাবা বাবর আলীর। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে অনেক কষ্টে লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন ছেলেকে। ছেলে ঢাকার একটি কোম্পানীতে ভাল চাকুরী ও করতেন। চেয়েছিলেন, শেষ বয়সে ছেলে হবে তাদের সুখ দুঃখের সারথি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যে ছেলেকে কোনো দিন কষ্ট করতে দেননি, সেই ছেলেকেই হারিয়ে এখন শোকে পাথর বাবা।
আনোয়ার হোসেন। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর চাইপাড়া এলাকার বাবর আলীর ছেলে। ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। পূজার ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না। নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জনের সংগে প্রাণ হারান আনোয়ার। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।
ছেলের কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা বাবর আলী। তিনি বলেন, ছেলেটি লেখাপড়ায় খুব মেধাবী ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। কোনো দিন ছেলেকে পরিশ্রম করতে দেননি। তার একটাই চাওয়া ছিল—ছেলে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবে, পরিবারের অভাব দূর করবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণের পথেও এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
আনোয়ারের সংসারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, মাত্র তিন বছরের একটি ছেলে ও এক বছরের একটি মেয়ে। যে বয়সে সন্তানদের বাবার হাত ধরে বড় হওয়ার কথা, সেই বয়সেই তারা হারাল বাবাকে। যে স্ত্রীকে নিয়ে সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন আনোয়ার, সেই স্ত্রীকেও এখন সামনে এগোতে হবে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে।
পরিবারটির একমাত্র ভরসা ছিলেন আনোয়ার। তার উপার্জনেই চলত সংসার। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
শোকাহত বাবর আলীর বুকফাটা আর্তনাদ যেন থামছেই না। বারবার বলছেন, যে ছেলেকে কোনো দিন কষ্ট করতে দেননি, অনেক আশা নিয়ে লেখাপড়া শিখিয়েছেন, সেই ছেলেই আজ আর নেই। ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন পূরণ হলেও, তাকে ঘিরে দেখা বাকি স্বপ্নগুলো অধরাই থেকে গেল।
ছবি ক্যাপশান – ১ ও ২ একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন বাবর আলী


