১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | রাত ৬:২১:১৯ মিনিট

নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসার ভেতর ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ময়নাতদন্তের পর অধিকতর পরীক্ষার জন্য মরদেহটি রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৮টার দিকে মরদেহটি রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

নিহত ছাত্রী গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াবদা বাজার এলাকার হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদ্রাসার ভেতর থেকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার মা ও খালু তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় গুরুদাসপুর থানা পুলিশ ও নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সন্ধ্যার পর মাদ্রাসার সুপার ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসা পরিদর্শন করে ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় ময়নাতদন্তের পাশাপাশি অধিকতর পরীক্ষার জন্য মরদেহ ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার সময় ছাত্রীর মা দাবি করেছিলেন, মাদ্রাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথাও বলা হয়। এসব অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্যকে ঘিরে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ময়নাতদন্ত নিয়েও নাটোর সদর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। নিহতের মা ও স্বজনেরা মরদেহ ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।

নিহতের মা বিলাপ করতে করতে অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সেই বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিলাম।’

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, মাদ্রাসাটিতে বেশ কিছু ছাত্রী আবাসিকে থেকে কোরআন হিফজ করছেন। মাদ্রাসার ভেতর একজন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নান বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *