পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামকে কৃষিবান্ধব ও সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তামাক চাষ বন্ধ করে কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজুবাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় অর্গানিক ফলের বাগান ও রাম্বুটান চাষ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্গম এলাকার সুপেয় পানির সংকট সমাধানেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত পরিবারগুলোকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসনের কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি। তিনি পাহাড়ি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজুবাদাম, কফি, মাশরুম, লটকন চাষ এবং ভেড়া-মেষ পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

