বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত-শিবিরকে মোকাবিলা করার জন্য একা ছাত্রদলই যথেষ্ট। তিনি এও বলেছেন, শিবির যদি একইভাবে রাজনীতি চালিয়ে যায়, তাহলে এর ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

 

বুধবার, ৫ আগস্ট সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

 

রাকিব বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি কাম্য নয়। একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়েছে। রাতভর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আছে।

 

তিনি বলেন, হামলার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। তারা দাবি করেছেন, ছাত্রদল শিবিরের সঙ্গে দুই মিনিটও টিকতে পারে না। এমনকি রংপুরে ছাত্রদলের অস্তিত্ব রাখা হবে না বলেও প্রচার চালানো হয়েছে।

 

ছাত্রদল সভাপতি বলেছেন, শুধুমাত্র শিবিরের নেতাকর্মী নয়, জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও এ ঘটনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। ছাত্রলীগের কায়দায় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর ঘটনাকে তারা বীরত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। পরদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী গিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করেছেন। তাদের চিন্তা-চেতনায় ‘মব’ সংস্কৃতি রয়েছে। তারা উচ্চবাচ্য করতে চায়, অন্যের চরিত্রহনন করতে চায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ ধরনের সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই।

 

রাকিব বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ভেবেছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের চোখে চোখ রেখে রাজনীতি করেছে। তারা কোনওদিন আত্মগোপন করে রাজনীতি করেনি। ছাত্রলীগের শাসনামলেও ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের পতাকাতলে গিয়ে রাজনীতি করেননি। যারা আত্মগোপনে রাজনীতি করেছে, তারা ছাত্রদলের সেই বাস্তবতা বুঝবে না। ছাত্রদলের উপর আঘাত এলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।

 

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একজন সদস্যের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতারা অত্যন্ত সহিষ্ণু আচরণ করেছিলেন। সেখানে শিবিরের নেতাকর্মীদের শান্তভাবে সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শিবির আরও উদ্ধত আচরণ করেছে, যার ফলেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঢাকা কলেজের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, নিউমার্কেট থানা ছাত্রশিবিরের এক নেতা ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বর্তমান সদস্যসচিবকে হুমকি দিয়েছেন। ওই নেতা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েও প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন। তাকে রাতভর হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু হুমকি দিলেই হয় না, সেটি বাস্তবায়নের সক্ষমতাও থাকতে হয়, আর সেই সক্ষমতা শিবিরের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও জানান, বুধবার ঢাকায় শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে লাঠি, সোটা ও পাইপ প্রদর্শন করেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন। এ সময় রাকিব বলছেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলছি, জামায়াত এবং শিবির—এই দুই দলকে মোকাবিলা করার জন্য একা ছাত্রদলই যথেষ্ট। আমার যুবদল লাগবে না, স্বেচ্ছাসেবক দল লাগবে না, বিএনপিও লাগবে না। শুধু ছাত্রদলই যথেষ্ট।

 

তিনি আরো বলেন, যদি ইসলামী ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন, হুমকি, মববাজি ও সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তাদের সেই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

 

রাকিব বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সারা দেশে নিজেদের নেতাকর্মীদের সংযত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। জুলাই-আগস্টের স্মৃতিবিজড়িত এই সময়ে কোন প্রকার উত্তেজনা ছড়িয়ে শিবিরকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দিতে চায় না ছাত্রদল।

 

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটি রয়েছে। তারপরও কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা সংযম দেখাচ্ছেন। তবে শিবির যদি ভবিষ্যতেও একইভাবে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন, হুমকি ও মববাজির রাজনীতি চালিয়ে যায়, তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার মতো পরিণতি তাদের আবারও ভোগ করতে হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *