সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ৮ মাস আগে গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। ১ মাস আগে জন্ম নিয়েছে তার একমাত্র কন্যা সন্তান। অনেক আশা ছিল, দেশে ফিরে সন্তানের মুখ দেখবেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এখন তারই মুখ দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে পরিবার। স্বামীর মৃত্যুর খবরে শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী মিতু বেগম।
নিহত শামীম হোসেনের বাড়ি নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার
দিঘীরপাড় এলাকায়। তার বাবার মোঃ জাকির হোসেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকায় মিতু নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন শামীম হোসেন। বিয়ের পর সন্তান না হওয়ায় অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ চার বছর পর স্ত্রীর গর্ভবতী হন। গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে প্রবাস জীবনে পাড়ি জমান শামীম। সন্তান হবার খুশিতে বিদেশে আত্মহারা শামীম। অনেক স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করবেন। কিন্ত ভাগ্যের নির্মল পরিহার সন্তানকে আর আদর করা হলো না তার।
নিহতের মা শাহীনুর বেগম কান্নাকন্ঠে বলেন, সরকারের কাছে আবেদন, আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদিতে গিয়েছিল। আমার এক মাস বযসি নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না।
আমার ছেলের এক মেয়ে রয়েছে, সরকার যেন তার ভবিষতের জন্য কিছু করে দেয়।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান জানান, ঘটনাটি জানার পরই জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমাবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে রওনা হয়েছে। নিহত পরিবারের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে। মরদেহগুলো
পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাছ শুরু করেছে।
সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে নাটোরের নলডাঙ্গা তিন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন- নাটোরে নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়ন
শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো. রাব্বানীর ছেলে
সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড় এলাকার মোঃ জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম শেখের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয়।
https://youtu.be/dQCSBB5QH9c?si=SjwO6Qb10z7GvRka

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *