
নাটোরের লালপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ধূপাইল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বয়স যাচাইয়ের পর বাল্যবিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রশাসন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শাহিনা সুলতানার প্রসিকিউশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কিশোরীর বাবা মো. আসাদুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে তার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
এদিকে, বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নষ্ট না করে তা স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাবারগুলো ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকীর জিম্মায় দেওয়া হলে তিনি তা এতিমখানায় পৌঁছে দেন।
অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন বলেন, ‘বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

