স্টাফ রিপোর্টার

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এ মামলার আসামি নাটোর-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান ওরফে মিন্টুকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তদন্তের স্বার্থে নূরুজ্জামানকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। নীল-সাদা রঙের মোটরসাইকেলটির কোনো নিবন্ধন নেই। ঘটনার সময় সড়কে পড়ে যাওয়ায় এর ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে বলেন, তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অবস্থান জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার ও মাহবুব হোসেন রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুনানি শেষে আদালত আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে রিমান্ডে নেওয়ার আগে ও পরে আসামির চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। প্রবাসী রাসেল হোসাইন ও নূরুজ্জামানকে ঘিরে সব ধরনের সন্দেহ যাচাই করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

