স্ত্রীর বেতনের টাকা জুয়ায় হারানোর পর ওষুধ কেনার জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিক মিম আক্তারকে (২৮) জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

 এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলম হোসেনকে (২৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার শাশুড়ি জাহানারা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরীর রাজদিঘীর উত্তরপাড়ে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার।

 

গ্রেফতার আলম হোসেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের মৃত লতিফের ছেলে। তিনি অটোরিকশাচালক। পিবিআই জানায়, তিনি মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন।

 

 স্ত্রী মিম, মা জাহানারা বেগম এবং তিন বছরের ছেলে মেরাজকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার পালেরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

 

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে আলম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

 

নিহত মিম আক্তার একই উপজেলার মাঝিয়াইল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম রানা স্বামী ও শাশুড়িকে আসামি করে বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক রাফিকুল ইসলাম জামান জানান, প্রায় ছয় বছর আগে আলম ও মিমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সংসারে প্রায়ই টাকাপয়সা নিয়ে বিরোধ হতো এবং আলম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন।

 

তদন্তে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই মিম তার বেতনের পাঁচ হাজার টাকা ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখেন। ২৭ জুলাই রাতে আলম স্ত্রীর অজান্তে সেই টাকা নিয়ে জুয়া খেলেন।

 

পরে ওষুধ কেনার জন্য টাকা খুঁজতে গিয়ে মিম বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, শাশুড়িকেও বিষয়টি জানালে দুজন মিলে তাকে মারধর করেন। পরে ভয়ে তিনি বোনের বাসায় আশ্রয় নেন।

 

সেদিন রাতেই আলম ও তার মা মিমকে বোনের বাসা থেকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন। পিবিআইর ভাষ্য, রাতের শেষভাগে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মা-ছেলে পালিয়ে যান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।

হত্যাকাণ্ডের দুই দিনের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

 

অপর আসামি জাহানারা বেগমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, অভিযানে পিবিআই বরিশাল, নৌপুলিশ ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সহায়তা করেছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *