স্টাফ রিপোর্টার
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেলরানাকে বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন দেশের বিভিন্ন

পেশা ও শ্রেণীর মানুষ।গণমাধ্যম ও সামাজিকসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে নিন্দার ঝড়। এমনকি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তার নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় গিয়ে জানা যায়, রমিসা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) ওই গ্রামের বাসিন্দা জাকির আলীর ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি একসময় সাইকেল ও রিকশা মেরামতের কাজ করতেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, জীবিকার পাশাপাশি তিনি জুয়া, মাদক ও চুরিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাকির আলীর তিন সন্তানের মধ্যে বড় সোহেল রানা। প্রথম সংসারে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার অভিযোগের জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এছাড়া জুয়ার কারণে বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নেওয়ায় একসময় পরিবার থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এরপর তিনি অন্যত্র বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন এবং পরিচয় গোপন রাখতে বাবার নাম ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম জানান, “তিন বছর আগে পরিবার থেকে বের করে দেওয়ার পর তার সঙ্গে আমাদের আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারি। এলাকায় থাকাকালেও সে নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তবে এমন ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত হতে পারে—তা কল্পনাও করিনি।”
সোহেল রানার বাবা বৃদ্ধ জাকির আলী অস্ত্রসিক্ত কন্ঠে বলেন, তাকে নিয়ে পরিবারের অশান্তির চেয়ে ছিল না। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে কিছুদিন সিংড়ায় বসবাস করে এরপরে ঢাকা চলে যায়। এই তিন বছরে সোহেল রানের সঙ্গে তার পরিবারের কোনই যোগাযোগ ছিল না। তিনি রমেশ্বর মতো নিষ্পাপ শিশুর নির্মম ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এমন ঘটনা আমার কপালে ছিল ভাবতেও পারিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় এবং গ্লানির্ভর মধ্যে বসবাস করছি। আমার দুঃখের কথা আপনাদের কাছে প্রকাশ করতে পারছি না ।আমার অন্তর ভেঙে যাচ্ছে।
এদিকে, সোহেল রানার গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুরের যে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মহেশচন্দ্রপুর এলাকার ইউপি সদস্য মো. আফতাব আলী বলেন, “গ্রামে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ নেই। সোহেল রানের বাবাকে একজন ভালো মানুষ হিসাবেই আমরা জানি।তবে সোহেল রানা এলাকায় থাকাকালীন বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

