স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াভালী থেকে একসঙ্গে রওনা দিয়েছিলেন স্ত্রী সন্তান সহ চারজন। গন্তব্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আত্মীয় বাড়ি । হয়তো পথজুড়ে ছিল নানা গল্প, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ, আর প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষা। কিন্তু নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুবিনা বেগম ও ছেলে মো. লাবিব।
গত সোমবার বিকেলে আরপি নাইস পরিবহনের একটি বাসে পটুয়াখালী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। বাস কাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল চারটার দিকে বাসটি বরগুনা থেকে ছেড়ে আসে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী থেকে বাসে ওঠেন রুবিনা বেগম ও তাঁর দুই সন্তান। পরে মাগুরা থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন শহীদুল ইসলাম।
এরপর মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের সরদারপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শহীদুল ও তাঁর ছোট্ট মেয়ে তাছফিয়া।
পাঁচ বছরের তাছফিয়া পড়ত স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসায়। যে বয়সে বাবার হাত ধরে নতুন পৃথিবী চেনার কথা, যে বয়সে মায়ের আঁচল আর ভাইয়ের সঙ্গে কাটানোর কথা দুরন্ত সময়—সেই বয়সেই থেমে গেল তার ছোট্ট জীবন।
অন্যদিকে, শহীদুলের ছেলে লাবিব সুবিদখালী আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এখন বাবাকে হারানোর শোক আর ছোট বোনকে হারানোর বেদনার পাশাপাশি তাকে লড়তে হচ্ছে নিজের মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায়।
শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পরিবারের চারজনের সেই যাত্রায় এখন তিনি ও তাঁর ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শহীদুলের ফুফাতো ভাই সুজন হাওলাদার জানান, বাবা ও মেয়ের মরদেহ সুবিদখালীর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের জন্য।তিনি বলেন যাঁদের ঘিরে থাকার কথা ছিল আপনজনদের হাসি-আনন্দ, তাঁরা ফিরছেন নিথর দেহে। বাড়ির দরজায় এখন আনন্দের বদলে অপেক্ষা করছে কান্না আর শোক।
ছবি ক্যাপশান -ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের সাথে মেয়ে তাফসিয়া


