সাভার ও আশুলিয়ায় ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাই ও তথ্য সংরক্ষণ ছাড়াই বাসা ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক বাড়িওয়ালা জাতীয় পরিচয়পত্র, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা কিংবা মোবাইল নম্বরও রাখছেন না। ফলে কোনো বাসায় কে থাকছেন, কোথা থেকে এসেছেন—এসব তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই অজানা থেকে যাচ্ছে।
পুলিশের দাবি, সাভার-আশুলিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ ভাড়াটিয়ার সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। জনবহুল এই শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষের নিয়মিত যাতায়াত ও বাসা পরিবর্তনের সুযোগে অপরাধীরাও সহজে পরিচয় গোপন করে থাকতে পারছে।
এর প্রভাব পড়ছে অপরাধ তদন্তে। গত এক বছরে সাভার-আশুলিয়ায় ১৫টির বেশি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর দেখা যায়, তিনি মাত্র দুই দিন আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িওয়ালার কাছে তার কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বর ছিল না।
পুলিশ ও পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, ভাড়াটিয়ার পরিচয়, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংরক্ষিত থাকলে অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা অনেক সহজ হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার তথ্য হোল্ডিং নম্বরের ভিত্তিতে সংরক্ষণ এবং একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। পুলিশও সাভার-আশুলিয়াসহ ঢাকা জেলার ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য নিয়ে একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

