২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | রাত ৭:৪৮:৫৯ মিনিট
Oplus_16908288

উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক নাটোর-বগুড়া সড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বেশ কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাটোরকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এই মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। ফলে সড়কের মূল অংশের পাশের জায়গা ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্থকরণের কাজ শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ফোরলেনের কাজ এ বছরই শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় এখনো ২টি ব্রীজের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজে সাজানো হয়েছে কাজগুলো। রাস্তার দুধারে মাটি ফেলানো, সড়ক প্রশস্থ, ব্রীজ নির্মান এ সব প্যাকেজে ছিলো বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের একাধিক স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রায় ১৫ টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব জায়গায় বালুর বস্তা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। কোনো কোনো স্থানে সড়কের পোল উল্টে পড়ে আছে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের পরপরই এ ধরনের ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের  তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *