জাবিতে জুলাই আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থী কারাগারেজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি দৃশ্য।
জাবিতে জুলাই আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থী কারাগারে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি দৃশ্য।

জাবিতে জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শিক্ষার্থী কারাগারে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম শারাফাত শারিক (রোহান)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন শারাফাত শারিক। ওই পোস্টগুলোতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।

এরপর বুধবার শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বক্তব্য

আটক অবস্থায় শারাফাত শারিক তার বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই।

এছাড়া কারও প্ররোচনায় তিনি পোস্ট দেননি বলেও দাবি করেন।

তার দাবি, কয়েকটি শব্দের ব্যবহার অনুচিত হয়েছে। তবে জুলাই আন্দোলনকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়

এদিকে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারাফাত শারিককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই’২৪ গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিরূপ ও অনভিপ্রেত মন্তব্যের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিমকে।

এছাড়া কমিটিতে রয়েছেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। রয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।

দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তারও কমিটিতে রয়েছেন। আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. রেজাউল আলম সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে তদন্ত কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশে কারাগারে

একই মামলায় বৃহস্পতিবার শারাফাত শারিককে আদালতে হাজির করা হয়।

তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মানষ ভদ্র।

আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুছ ছাত্তার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *