এজাহারের পরদিনই নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, লালপুর ইউএনও বদলি#সংবাদ শৈলীএজাহারের পরদিনই নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, লালপুর ইউএনও বদলি#সংবাদ শৈলী

স্টাফ রিপোর্টার

এজাহারের পরদিনই নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, লালপুর ইউএনও বদলি#সংবাদ শৈলী
এজাহারের পরদিনই নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, লালপুর ইউএনও বদলি#সংবাদ শৈলী

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

একই সময়ে এ দুই কর্মকর্তার বদলির ঘটনায় নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারের পরদিনই এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

লালপুরে দায়ের করা এজাহারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাগাতিপাড়ায় দায়ের করা এজাহারে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লালপুরের এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা।

বাগাতিপাড়ার এজাহারে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না ও ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সরকারি সম্পদ ও অফিসে হামলার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। দলকে হেয় করতে একটি মহল এ ধরনের চক্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুটি উপজেলাতেই কয়েকজন সংবাদ কর্মি আহত হন।

এর পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন। এসব এজাহারে মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহার দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার ও লালপুরের ইউএনও বদলির ঘটনায় এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে সরকারি আদেশে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *