১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | বিকাল ৫:৫১:২০ মিনিট

নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন নারী–শিশুসহ ছয় স্বজন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন স্রোতের তোড়ে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি দেখে তাঁদের বাঁচানোর জন্য নদীতে ঝাঁপ দেন স্থানীয় এক তরুণ। দুজনকে টেনে পাড়ে তোলার পর আরেকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি তলিয়ে যান। প্রায় ১৯ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর ওই তরুণসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এখনো নিখোঁজ আছেন দুজন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পায়নি ফায়ার সার্ভিস। আজ শনিবার ভোর থেকে অভিযান চালিয়ে সকাল ১০টার দিকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বেলা একটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ অন্য দুজনের সন্ধানে অভিযান চলছে।

লাশ উদ্ধার হওয়া ওই তরুণের নাম মো. সৌরভ মিয়া। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যজন হলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল এলাকার সৌদিপ্রবাসী ওবায়দুল্লাহ (৩৮)। তিনি লাখপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পরিবার নিয়ে শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমেছিলেন। নিখোঁজ দুজন হলেন তাঁর স্বজন শান্তা আক্তার (২৫) ও মো. শান্ত মিয়া (২৪)।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে লাখপুরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন ওবায়দুল্লাহ। বেলা দুইটার দিকে পরিবারটির ছয় সদস্য শীতলক্ষ্যায় গোসল করতে যান। গোসলের এক পর্যায়ে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন শান্তা আক্তার। তাঁকে টেনে ধরতে গিয়ে সন্তানসহ হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তাঁর বোন শাহীনুর আক্তার।

এ সময় ওবায়দুল্লাহ ও শান্ত তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে সবাই নদীতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনা দেখে তাঁদের বাঁচানোর জন্য নদীতে ঝাঁপ দেন স্থানীয় তরুণ সৌরভ। তিনি শিশুসন্তানসহ শাহীনুরকে উদ্ধার করে পাড়ে তোলেন। এ সময় আরেকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও তলিয়ে যান। এরপর স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও কারও সন্ধান পাননি।

খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শীতলক্ষ্যায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যার আগপর্যন্ত অভিযান চালালেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি। ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দলসহ আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় আবার অভিযান শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে ডুবুরি দলের সদস্যরা ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভের লাশ উদ্ধার করেন।

তীব্র স্রোতের কারণে গতকাল ভালোভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো যায়নি বলে জানান শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবুল কাশেম। ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দলকে নিয়ে আজ সকালে আবার অভিযান শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত দুজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।

বেঁচে ফেরা শাহীনুর আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শান্তা তলিয়ে যাচ্ছিল দেখে টেনে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। পরে নিজেও তলিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার স্বামী ও ভাগনে আমাদের বাঁচাতে গিয়ে ডুবে যায়। সৌরভ নামের ছেলেটি ঝাঁপ দিয়ে বাচ্চাসহ আমাকে পাড়ে তোলে। আমাদের বাঁচানোর পর অন্যদের বাঁচাতে আবার নদীতে নামে সে। পরে সে–ও ডুবে যায়।’

নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান শিবপুর থানার উপপরিদর্শক নাদিম হাসান। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মারা যাওয়া সৌরভ মিয়া
মারা যাওয়া সৌরভ মিয়া



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *