
সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলছিল একটি যুদ্ধবিরতি, কিন্তু এখন নতুন করে উত্তেজনার সূচনা হয়েছে। লোহিত সাগরে সৌদি মালিকানাধীন একটি জাহাজে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরের প্রধান বন্দরনগরী হুদাইদায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক্স অ্যাপে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়ার বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু দখলে নেওয়ার জন্য এই আনুপাতিক সামরিক প্রতিক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।
ইয়েমেনের নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হুদাইদা শহরে অবস্থিত একটি নৌঘাঁটি এবং কামরান দ্বীপের একটি সামরিক ক্যাম্প। তবে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানাচ্ছে, হামলায় হুদাইদায় একজন শ্রমিক এবং কামরান দ্বীপের এক নারী আহত হয়েছেন এবং বিস্ফোরণের শব্দে বন্দর এলাকা কেঁপে উঠেছে।
এর আগে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা নিজেদের সামুদ্রিক অবরোধের নির্দেশ অমান্য করার কারণে সৌদি জাহাজে হামলার হুমকি দেয় এবং এই সপ্তাহে তারা দুটি সৌদি জাহাজে হামলার দাবিও করে। এর মধ্যে একটি জাহাজে হামলার সত্যতা সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে। এই সংঘাতের কারণে ২০২০ সাল থেকে চলে আসা ভঙ্গুর শান্তিচৌকি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হুদাইদা বন্দর লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি এবং ইয়েমেনের সব বন্দর, যেমন হুদাইদা, রাস ইসা ও সালিফ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। একইসাথে, সৌদি স্বার্থ রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জোটটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের ইয়েমেন বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের হুথিদের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এই মিলিশিয়া গোষ্ঠী ইয়েমেনকে বৈদেশিক শক্তির হাতের পুতুলে পরিণত করেছে এবং জনগণের দুর্দশা বাড়িয়ে চলেছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টির প্রধান রাশাদ আল-আলিমিও একই সুরে মন্তব্য করে বলেন, হুথিরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইয়েমেনের স্বার্থ জুয়ায় ঠেলে দিচ্ছে এবং বহিরাগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
অপরদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে সংঘাতের নতুন ধাপের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে বিঘ্ন ঘটানো সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের গুরুত্ব বর্তমানে বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
