ওষুধে স্বনির্ভর হলেও প্রায় ৮৫ শতাংশ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার ও মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা আর থাকবে না। ওষুধ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। শিল্পের বিকাশে প্রয়োজন কাঁচামালেও স্বনির্ভরতা। সেই চিন্তা থেকে দুই দশক আগে রাজধানীর অদূরে একটি এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল একই স্থানে এপিআই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যয় কমানো, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করে তোলা। এজন্য ২০০৮ সালে মেঘনা নদীর পাড়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই শিল্পপার্ক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০০ একর এপিআই শিল্পপার্কে চারটি প্রতিষ্ঠান এপিআই উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে। আরও দুই প্রতিষ্ঠান শিগগির তাদের কাজ শুরু করবে। তবে প্রকল্পের নানা সংকটের কারণে দুটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। বরাদ্দকৃত ২৭টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে এখন ২৫টি রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সাজানো গোছানো প্রকল্প এলাকায় প্রতিটি ইউনিট পর্যন্ত গ্যাসের লাইন থাকলেও সরবরাহ নেই। পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও সেটি কারখানা চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট (সিইটিপি) স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ কারখানা চালু না হওয়ায় অযত্নে পড়ে আছে। এতে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে উল্টো ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সীমানা প্রাচীরের বাইরে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। ৪২টি প্লটের অধিকাংশই খালি। দেখে মনে হচ্ছে, ঝোপঝাড় ও লম্বা ঘাসের মধ্যে কয়েকটি ভবন দাঁড়িয়ে আছে। এ শিল্পপার্কে ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় আস্থা রেখে যারা বিপুল বিনিয়োগ করেছিলেন, দীর্ঘসূত্রতায় তাদের অনেকেই এখন চরম হতাশায় ভুগছেন।

শিল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের এপিআইর চাহিদার অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, যদি আরও বড় কোম্পানি শিল্পে বিনিয়োগ করে। তবে গ্যাসের মতো মৌলিক সেবার অপর্যাপ্ততায় এপিআই পার্কে বিনিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সীগঞ্জে গজারিয়ার বাউশিয়ায় মেঘনা নদীর পাড়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) ২০০৮ সালে ২০০ একর জমিতে এপিআই শিল্পপার্ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ এগোয়নি। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২১৩ কোটি টাকা। এরপর দুই দফা সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একরপ্রতি জমির দাম ধরা হয় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এই এপিআই শিল্পপার্কে মোট ৪২টি উৎপাদন প্লট রয়েছে। সেখানে দুই ডজনেরও বেশি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্লটের জন্য আবেদন করে। প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ নিয়ে কারখানা নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগও করে।

প্রকল্প এলাকায় বিসিক অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা সিইটিপি) নির্মাণ করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ আর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালু করা যায়নি এখনো। বিস্তীর্ণ প্লটজুড়ে ঝোপঝাড় ও লম্বা ঘাস ছাড়া আর কিছুই নেই।

এরই মধ্যে অ্যাকমি ল্যাবরেটরিজ, হেলথকেয়ার ক্যামিক্যালস সীমিত পরিসরে এপিআই উৎপাদন করছে। ইবনে সিনা ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিজ আর ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফাইন ক্যামিকেলস এপিআই উৎপাদনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং হাডসন ফার্মাসিউটিক্যালস।

এপিআই ও এপিআই পার্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ

গত দুই দশকে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো আধুনিক ফর্মুলেশন কারখানা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং জটিল ডোজেজ ফর্ম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু ফর্মুলেশন উৎপাদনে দক্ষতা অর্জন করলেই শিল্পটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। কারণ, ওষুধ উৎপাদনের মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশই এপিআইর পেছনে ব্যয় হয়। ফলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উৎপাদকদের বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকির মুখে ফেলে।

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদার কারণে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার ও মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করায় এ আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সেই সুবিধাগুলো আর থাকবে না। এর ফলে দেশের ওষুধশিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ট্রিপস (ট্রেড-রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস) চুক্তির আওতায় স্থানীয় কোম্পানিগুলো আর লাইসেন্স ছাড়া পেটেন্টকৃত নতুন ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, মুনাফার হার কমবে এবং দেশীয় এপিআই উৎপাদনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। এ ঝুঁকির বিষয়টি সরকার অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিল। সে কারণেই এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। যাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ওষুধশিল্পে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলা যায়।

৮০ কোটি টাকার অব্যবহৃত সিইটিপি নষ্টের পথে : এপিআই উৎপাদনে বিপজ্জনক রাসায়নিক বর্জ্য সৃষ্টি হয় বলে পরিবেশগত মান রক্ষা বাধ্যতামূলক। এ কারণে শিল্পপার্কের সব কারখানার বর্জ্য শোধনের জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ করা হয়। যাতে পৃথকভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমে এবং পরিবেশগত তদারকি সহজ হয়। কিন্তু কোনো কারখানাই উৎপাদনে না যাওয়ায় এই বর্জ্য শোধনাগার আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও ব্যবহার করা যায়নি। খোলা আকাশের নিচে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে এটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে।

গ্যাস নেই, চড়ামূল্যের ডিজেলই ভরসা : এপিআই উৎপাদন উচ্চ জ্বালানি ও বাষ্পনির্ভর শিল্প। রাসায়নিক সংশ্লেষণ, পাতন এবং পরিশোধনসহ বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ বাষ্পের প্রয়োজন হয়। যা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে উৎপাদন করা হয়। গ্যাসের পরিবর্তে অন্য জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এপিআই শিল্পপার্কের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে না পারা। গ্যাস না থাকলে ডিজেল ব্যবহার করতে হয়, এতে উৎপাদন ব্যয় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। সেই অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়।

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ এপিআইর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি উৎপাদিত হয়। কারণ বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে ট্রিপস চুক্তির অধীনে পেটেন্ট সুরক্ষার যে অব্যাহতি এতদিন ছিল, তা আর থাকবে না। ফলে স্থানীয় কোম্পানিগুলো আর লাইসেন্স ছাড়া নতুন পেটেন্টকৃত ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না। দেশের ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে এপিআই খাতে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এপিআই আমদানি করে।

একমি ল্যাবরেটরিজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তারা চারটি বাণিজ্যিক এপিআই উৎপাদন করছে। আরও ১৮টি এপিআইর মলিকিউল নিয়ে গবেষণা চলছে। ২০১৮ সালে এপিআই শিল্পপার্কে ভূমির বরাদ্দ বুঝে পাওয়ার পর থেকেই একমি তাদের কাজ শুরু করে। ২০২৪ সালে তারা উৎপাদনে আসে। উৎপাদিত এপিআই নিজেদের ওষুধ তৈরি, অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি এবং পরবর্তী সময়ে রপ্তানি করা হবে।

একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক মতিউর রহমান সিনহা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলিডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পেটেন্টকৃত ওষুধ উৎপাদনে ছাড় সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। তখন রয়্যালটি ফি দিয়ে পেটেন্টকৃত কাঁচামাল দেশে আনতে হবে। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। এ সুবিধা থাকতে থাকতেই দেশে এপিআই উৎপাদনে এগিয়ে যেতে হবে। যাতে ওই সময়সীমার পর যতটা সম্ভব কম আমদানি করা লাগে। এটা সম্ভব না হলে ওষুধের মতো অতি আবশ্যক পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না। প্রকারান্তরে যা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের অভিঘাত ডেকে আনবে। রপ্তানি বাজারেও সক্ষমতা কমবে। এর আগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, এপিআই শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এপিআইর মূল্য নির্ধারণের কাজটি গতিশীল করতে হবে। নাজুক পণ্য হিসেবে অ্যাসিডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক আমদানি, পরিবহন ও পরিমাণমতো ব্যবহারের অনুমতি নিতে হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হচ্ছে। এতে নানা ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। অর্থ ব্যয় হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অকারণে সময় ব্যয় হয়, যা শেষ পর্যন্ত উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যায়। এই জটিলতাও নিরসন করতে হবে।

হেলথ কেয়ার জানিয়েছে, তারা ৩টি এপিআই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছে। আরও চারটি এপিআই পণ্যের মূল্য নির্ধারণের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করে রেখেছে। গ্যাসের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ডিজেল চালিত পদ্ধতিতে কারখানা চালু রেখেছে। মাসে প্রায় ৬০ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল খরচ হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ থাকলে কারখানায় বর্তমান উৎপাদন ব্যয়ের ৩০ শতাংশের বেশি সাশ্রয়ী হতো।

হেলথ কেয়ার কেমিক্যালসের গবেষণা ও উন্নয়ন (এপিআই) বিভাগের প্রধান মো. লায়েক আলী খান জানান, গ্যাসের অভাবে শিল্পে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ ৩০ শতাংশ বেশি হচ্ছে। ৩টি মলিকিউল এপিআই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে। আরও চারটি মলিকিউলের মূল্য নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে শিল্পটিকে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এপিআই শিল্পপার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ২০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং প্রতিটি প্লটের সীমানা পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান শিগগির কাজ শুরু করবে। তবে মূল সমস্যা হলো প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহ না থাকা। বিষয়টি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও হয়েছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুত না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এপিআই শিল্পপার্কে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না। কবে নাগাদ সরবরাহ করা সম্ভব হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না।

বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর পাড়ে প্রকল্পটি। এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের সংকট মোকাবিলা করা যায় কি না, সে বিষয়েও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ প্রস্তাবনায় ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বয়লার সচল রাখতে শিল্পপার্কে জ্বালানির বিকল্প হিসেবে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। শিল্পোদ্যক্তাদের জমি দেখতে বলা হয়েছে। আমরাও সহায়তা করব।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *