
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ইউরিয়া সার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে| বুধবার (১৪ মে) ভোর থেকেই উপজেলার ১৬টি ডিলার পয়েন্টে ভিড় করেন কৃষকরা|
আব্দুল আজিজ, রহিম মন্ডল, মনতাজ আলীসহ অন্তত ৩০ জন কৃষক জানান, প্রতিজনকে মাত্র ২০ কেজি করে ইউরিয়া সার দেওয়া হচ্ছে| চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক স্থানে দ্রুত সার শেষ হয়ে যাচ্ছে| ফলে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সার পাচ্ছেন না| বর্তমানে কৃষকরা পাট ও তিল চাষের জন্য সার সংগ্রহ করছেন|
উপজেলার মেসার্স সোনালী ট্রেডার্স এবং মেসার্স রাজা ইন্টারন্যাশনালসহ সব ডিলার পয়েন্টেই একই চিত্র দেখা গেছে| সার নিতে আসা কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ও অতিরিক্ত ভিড় লক্ষ্য করা যায়|
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো উপজেলায় পাট চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া| এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৮১৫ হেক্টর| তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৯৩১ হেক্টর জমিতে| এছাড়া সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে সার প্রয়োগ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে|
কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে ২১ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ মেট্রিক টন, ডিএপি ১৩ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৬৯ মেট্রিক টন|
রাজ্জাক আলী নামের একজন কৃষক বলেন, “জমিতে এখন সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়| কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় আছি| সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে|”
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানিয়েছেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই| তিনি বলেন, “আগে কৃষকরা বিভিন্ন কীটনাশকের দোকান থেকেও সার কিনতেন| বর্তমানে শুধু নির্ধারিত ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ করা হচ্ছে| এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা একসঙ্গে ডিলার পয়েন্টে আসছেন এবং সেখানে অতিরিক্ত ভিড় ˆতরি হচ্ছে|”
বাগাতিপাড়া উপজেলা সদরের মালঞ্চি বাজারের সার ডিলার মেসার্স রাজা ইন্টারন্যাশনালের মালিক সুবাসিস গারোদিয়া এবং গালিমপুর,
সোনালী টেডার্স এর মালিক রামপ্রসাদ মোর বলছেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার বিতরণ করা হচ্ছে| তবে চাহিদা বেশি থাকায় চাপ ˆতরি হচ্ছে|

