স্টাফ রিপোর্টার
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক বন্ধুত্বের টানেই সুদূর চীন থেকে নাটোরের বড়াইগ্রামে এসেছেন চীনা যুবক সুবেশ। স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুনের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসে এখন তিনি অবস্থান করছেন সাদিয়ার পরিবারের সঙ্গে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদেশি এই অতিথিকে একনজর দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
বৃহস্পতিবার রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে পৌঁছান সুবেশ। সাদিয়া খাতুন ওই বাড়ির মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাদিয়া ও সুবেশের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে বাংলাদেশে এসে বন্ধুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সুবেশ। বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পারলেও তিনি পাসপোর্ট ও ভিসার কাগজপত্রের ছবি পাঠালে সাদিয়া বিষয়টি পরিবারকে জানান। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা পৌঁছানোর পর সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে বড়াইগ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সাদিয়া খাতুন বলেন, “অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়েছিল। ধীরে ধীরে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। সে বাংলাদেশে এসে আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল, হয়তো আসবে না। কিন্তু সত্যিই চলে এসেছে। তার এই আগমন আমাদের বন্ধুত্বের আন্তরিকতারই প্রমাণ।”
সাদিয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সে আমাদের মেয়ের বন্ধু হিসেবে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি। কয়েকদিন আমাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সে আবার নিজ দেশে ফিরে যাবে।”
জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, “চীন থেকে একজন নাগরিক আমাদের এলাকায় বেড়াতে এসেছেন। স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই তিনি এখানে এসেছেন। বর্তমানে তিনি ওই পরিবারের অতিথি হিসেবে অবস্থান করছেন।”
এদিকে, বিদেশি অতিথির আগমনের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী নারী-পুরুষের ভিড় জমে সাদিয়াদের বাড়িতে। অনেকেই শুধু চীনা এই যুবককে একনজর দেখতেই সেখানে ছুটে আসেন। বন্ধুত্বের এই ব্যতিক্রমী গল্প এখন বড়াইগ্রামজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বন্ধুত্বের টানে চীন থেকে বড়াইগ্রামে, বিদেশি যুবককে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়#সংবাদ শৈলী 