স্টাফ রিপোর্টার

বড়াইগ্রামে মব সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করা অধ্যক্ষকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি##সংবাদ শৈলী
বড়াইগ্রামে মব সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করা অধ্যক্ষকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি##সংবাদ শৈলী

নাটোরের বড়াইগ্রামের ইসলামপুর গুনাইহাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনিকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করার প্রতিবাদে ও চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অধ্যক্ষ ও তার পরিবারের সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ ওসমান গনি বলেন, ১৯৮৮ সালে সহকারী মৌলভি হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাধারণভাবেই সংশ্লিষ্ট সরকারের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে। ওই সময় বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ বলার জন্যও সরকারী পরিপত্র দেওয়া হয় দেশের সব প্রতিষ্ঠানে। মাথার ওপর শেখ মুজিবর রহমান ও শেখ হাসিন্রা ছবি ছিলো না এমন প্রতিষ্ঠান একটিও পাওয়া যায়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট অপবাদ দিয়ে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আমার সাধ্য ছিলো না এতো টাকা দেবার। তাই সংঘবদ্ধ ওই চক্র মব সৃষ্টি করে আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং সেখানে পদত্যাগপত্র লিখে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়। তারা আমাকে মাদরাসায় প্রবেশ না করার জন্য হুমকীও প্রদান করে। এরপর থেকে আমি নিজ বাড়িতে নিভৃতে জীবন যাপন করে আসছি। অধ্যক্ষ ওসমান গনি আরও বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘটনাটি (পদত্যাগ) ঘটেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি আমরা। তাই সরকারের সাহায্য নিয়ে ন্যায্যতা ও অধিকার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের অভিভাবক নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ মহোদয়ের দ্বারস্থ হলে তিনি আমার বিষয়ে সকল তথ্য সংগ্রহ করে বুঝতে পেরেছেন যে আমার সাথে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তিনি আমার ও আমার পরিবারের ওপর মানবিক হয়ে আমাকে চাকুরিতে পুনর্বহালসহ বেতন ভাতা প্রদান ও স্বশরীরে উপস্থিত থেকে চাকুরীকরণে আইনি সহায়তা প্রদান করার জন্য মাদরাসার সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাটোর বরাবর ডেমি অফিসিয়াল (ডিও) লেটার প্রদান করেন। এই ডিও লেটারকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো একইভাবে আমাকে আপবাদ দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে। সেখানে সরকার দলীয় এমপি আব্দুল আজিজকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। যা অত্যান্ত দুঃখের। একটি দায়িত্বশীল জাতীয় গণমাধ্যম হিসেবে যাচাই বাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত ছিলো। আমি এই ধরণের সংবাদের উপর ঘুণা ও নিন্দা প্রকাশ করছি।  মূলতঃ  প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কোনো সুনির্দিষ্ট দল নাই। প্রতিষ্ঠান চালানোর স্বার্থে যখন যে সরকার আসে, সেই সরকারের নেতাদের সঙ্গে চলতে হয়। তাই এখানে কোন রাজনৈতিক দলে আমাকে ঠেলে দেওয়া পুরোপুরি অযৌক্তিক।
তিনি বলেন  আমি কোন দিনই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর রেজিস্ট্রার মো. আইউব হোসেন স্বাক্ষরিত (স্মারক নং: ইআবি/রেজি/প্রশা/ফা.গ.ব/রা-৮৪/২০১৭/১৭৫৯১) পত্রে মো. ওসমান গনি এর বেতন-ভাতা প্রদানসহ চাকুরি পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়ার পরেও তাকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করা হয়নি। কিন্তু কেন করা হয়নি এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ ওসমান গনির চাকুরি পুনর্বহালের জন্য আরও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিলো। তিনি দিতে পারেননি। সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পেয়েছি। আইনি জটিলতা না থাকলে তার চাকুরিতে যোগদান অসম্ভব কিছু নয়।
#

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *