স্টাফ রিপোর্টার

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে দেওয়া সারের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যোগ্যতা উপেক্ষা করে এসব ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গুরুদাসপুরের কয়েকজন সার ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে নাটোরের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত গুরুদাসপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সারের ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ডিও লেটার এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এ ছাড়া সংসদ সদস্যের ভাগ্নের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের মালিকানাধীন রাজ বিজনেস সেন্টার এবং তাঁর ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের ভায়রাসহ ঘনিষ্ঠজনদেরও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, গুদাম সুবিধা ও অন্যান্য যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওমর আলী শেখ এবং সার ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ, শাহিন হোসেন, আতিকুল ইসলাম, রইচ উদ্দিন, শামীম আক্তার, আয়নাল হোসেন ও গোলাম হোসেন।
এদিকে অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। তিনি বিষয়টি দেখবেন।

