১৫ অক্টোবর ২০২৬ | বিকাল ৪:৩৫:১৬ মিনিট

গাজীপুরে বাস থেকে নির্ধারিত স্থানে নামতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাসচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. শাকিল হাওলাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর পরিবহন কোম্পানীটির অন্তত সাতটি বাস আটকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীকে সহপাঠীরা গিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শাকিলের ভাষ্য, আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ডুয়েট গেট থেকে গাজীপুর পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। তাঁর গন্তব্য ছিল গাজীপুর চৌরাস্তার আগে অবস্থিত সিটি ব্যাংক। ব্যাংকের কাছাকাছি পৌঁছালে তিনি চালককে সেখানে নামিয়ে দিতে অনুরোধ করেন।

চালক তাঁকে সেখানে না নামিয়ে চৌরাস্তা পর্যন্ত গিয়ে নামতে বলেন। সেখান থেকে সিটি ব্যাংকে যেতে অতিরিক্ত ১০ টাকা ভাড়া দিতে হবে বলেও জানান চালক। শাকিল জানান, চালকের এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি শুধু বলেন, ‘ভাই, আপনি কেমন ব্যবহার করছেন?’ এর আগে চালকের সঙ্গে তাঁর কোনো কথা-কাটাকাটি বা বিরোধ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

শাকিলের অভিযোগ, এরপর বাসে থাকা মালিক সমিতির কয়েকজন ব্যক্তি চালকের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে চৌরাস্তার কাউন্টার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ জন মিলে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর মা-বাবা ও বোনকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও জানান, বাসে থাকা অবস্থাতেই তিনি নিজেকে ডুয়েটের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং পরিবহনসংশ্লিষ্ট কয়েকজন তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ডুয়েট আমরা চালাই, সব ভার্সিটি আমরা চালাই।’

শাকিলের ভাষ্য, পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, সেখানে আরও কিছুক্ষণ থাকলে তাঁর শারীরিক ক্ষতি আরও গুরুতর হতে পারতো বলে আশঙ্কা করেন তিনি। পরে কোনো উপায় না দেখে ঘটনাস্থল থেকে সরে আসেন।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *