ফরিদপুর শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাসহ মূল্যবান অলংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মন্দিরটিতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৭ দিন পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমা, স্বর্ণ-রুপার অলংকারসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরীয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
পুলিশ সুপারের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনিবার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের বুরাইচ গ্রাম থেকে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮) ও তার মা সাজেদা বেগম (৬৫) এবং বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকূল গ্রামের আমিন মোল্লাকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সাজেদা বেগমের দেখানো মতে তার বসতবাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং মন্দিরের ৬টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
এরপর আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বোয়ালমারী উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের রূপপাত গ্রামের মাসুদ মোল্লার বসতবাড়ির পেছনে মাটির নিচ থেকে কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাটি উদ্ধার করা হয়।
অবশেষে রোববার সকালে বোয়ালমারী স্বর্ণবাজারের বোয়ালমারী জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে কালী প্রতিমার কানের দুল ও টিকলিসহ গলানো অবস্থায় ৮ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক আতিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বিভিন্ন আদালতে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ৮টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাটির ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা। প্রতিমাটিতে থাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্য আনুমানিক ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৮ কেজি ওজনের বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি, শিবলিঙ্গের সঙ্গে থাকা ১০ ভরি ওজনের একটি রুপার সাপ এবং প্রায় ৩০ ভরি রুপাসহ মোট চুরি হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী বাদী হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিরামন বিশ্বাস জানান, গ্রেপ্তার ৪ জনকে রোববার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত মন্দিরটির একটি কাঠের ও একটি লোহার গেটের ৫টি তালা ভেঙে কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাসহ অন্যান্য সামগ্রী চুরি করা হয়। প্রায় ১৮ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত প্রাচীন এ মন্দিরটির পাকা কাঠামো নির্মিত হয় ১৯০৩ সালে।
