একই দিনে পৃথিবীর আলো, একই দিনে সাফল্যের হাসি—নাটোরের তিন বোনের অনন্য কৃতিত্ব#সংবাদ শৈলীএকই দিনে পৃথিবীর আলো, একই দিনে সাফল্যের হাসি—নাটোরের তিন বোনের অনন্য কৃতিত্ব#সংবাদ শৈলী

স্টাফ রিপোর্টার

একই দিনে পৃথিবীর আলো, একই দিনে সাফল্যের হাসি—নাটোরের তিন বোনের অনন্য কৃতিত্ব#সংবাদ শৈলী
একই দিনে পৃথিবীর আলো, একই দিনে সাফল্যের হাসি—নাটোরের তিন বোনের অনন্য কৃতিত্ব#সংবাদ শৈলী

জন্মের মুহূর্ত থেকে পথচলা একসঙ্গে। বেড়ে ওঠা, খেলাধুলা, পড়াশোনা—সবই পাশাপাশি। সেই যাত্রায় এবার যুক্ত হলো আরও একটি গর্বের অধ্যায়। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন বোন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় একযোগে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে সৃষ্টি করেছে বিরল নজির।

এই তিন মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন তনোয়া ফাতেমা, তাসমিয়া মরিয়ম ও আয়েশা সিদ্দিকা। তারা বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের বাবা রেজাউল করিম সরকার জোনাইল এম এল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা শিল্পী খাতুন একজন গৃহিণী। তিন বোন বর্তমানে একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, তারা জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজনই সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন যৌথ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

মেয়েদের এই অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা রেজাউল করিম সরকার বলেন, জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপেই তিন মেয়ের পথচলা একসঙ্গে। ছোটবেলা থেকেই তারা পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী। পরিবারের উৎসাহ, নিজেদের আন্তরিক পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনায় তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও তারা আরও ভালো করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা খাতুন কেয়া বলেন, তিন বোনই মেধাবী, পরিশ্রমী ও ভদ্র। বিদ্যালয়ের জন্য তাদের এই অর্জন অত্যন্ত গর্বের। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী দিনেও তারা শিক্ষাজীবনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

বর্তমানে তারা যে জোনাইল এম এল উচ্চবিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে, সেই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন বলেন, তিন বোনের সাফল্য বিদ্যালয়ের জন্যও সম্মানের। তাদের মেধা ও অধ্যবসায় ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, একইসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন বোনের একসঙ্গে বৃত্তি অর্জন একটি ব্যতিক্রমী ও আনন্দের ঘটনা। তিনি তিন শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের তিন সন্তানের একযোগে এমন কৃতিত্ব শুধু তাদের পরিবারের জন্যই নয়, পুরো বড়াইগ্রাম উপজেলার জন্যও গর্বের বিষয়। তিন বোনের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন তারা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *